মাছ চাষের লাভজনক উপায়

মাছ চাষের লাভজনক উপায়, গত কয়েক দশকে দেশে চাষাবাদাধীন মাছ উৎপাদনে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। দেশটি মৎস্য খাতে স্থিতিশীল অবস্থায় উন্নীত হয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ায় দেশের বাজারে মাছের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় পুকুরে মাছ চাষ গ্রামীণ বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানের অন্যতম মাধ্যম। অনুকূল জলবায়ু, মাছ চাষের সহজ প্রযুক্তি, উপকরণের প্রাচুর্যের কারণে প্রতিনিয়ত গ্রাম পর্যায়ে মাছ চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে।

মাছ চাষের লাভজনক উপায়

মাছ চাষের লাভজনক উপায়, অর্থনৈতিকভাবে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও বাড়ছে, তাই আগামী দিনে বাজারে মাছের চাহিদা বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। উন্নত দেশগুলোতে মাথাপিছু মাছের ব্যবহার আমাদের তুলনায় অনেক বেশি। আমাদের দেশের জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে যখন উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন প্রাকৃতিক কারণে হ্রাস পাচ্ছে এবং এর বিপরীতে দেশে মাথাপিছু বার্ষিক মাছের ব্যবহার বাড়ছে। বিভিন্ন স্তরের মাছ চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে লাভজনকভাবে মাছ চাষের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

কৃষি প্রযুক্তি নির্বাচন

লাভজনক মাছ চাষের জন্য সঠিক মাছ চাষ পদ্ধতি বেছে নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চাষে অনেক ধরনের মাছ চাষ রয়েছে। বিদ্যমান সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে, এখানে কিছু লাভজনক মাছ চাষ পদ্ধতি রয়েছে:
বড় আকারের ফ্রাই মজুদ করে কার্প মিশ্র চাষ: সাধারণত প্রতি শতকে 5-6 ইঞ্চি মাপের মাছ 50-60 কার্প ফ্রাই মজুদ করা হয়। কিন্তু বর্তমান ভাল পদ্ধতি হল কম ঘনত্বে 500 গ্রাম বড় ফ্রাই ছেড়ে দেওয়া (10-12 শতাংশ; যার মধ্যে 2টি হবে উপরের স্তরের মাছ, 7টি মধ্য স্তরের রো এবং 1টি নীচের স্তরের কার্প এবং 1টি কার্প এবং 1টি গ্রাস কার্প। স্তর) বড় মাছ উৎপাদন করতে। যত বড় পোনা মজুদ করা যায়, তত বড় ও মূল্যবান মাছ উৎপাদন করা যায়।

তেলাপিয়ার সাথে কার্পের মিশ্র চাষ

তেলাপিয়া এবং কার্প দুটি জনপ্রিয় মাছ যা একই পুকুরে একসাথে চাষ করা যেতে পারে। এই মিশ্র চাষে উভয় প্রজাতির মাছই উপকৃত হয়। তেলাপিয়া একটি দ্রুত বর্ধনশীল মাছ যা পুকুরের উপরের স্তরের জল ব্যবহার করে। কার্প একটি ধীর বর্ধনশীল মাছ যা পুকুরের নিম্ন স্তরের জল ব্যবহার করে। এর ফলে, পুকুরের সমস্ত জল ব্যবহার করা হয় এবং উভয় প্রজাতির মাছের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য এবং অক্সিজেন পাওয়া যায়।

তেলাপিয়া এবং কার্পের মিশ্র চাষের কিছু সুবিধা হল:

  • উচ্চ উৎপাদন: এই মিশ্র চাষে উভয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
  • পুকুরের সর্বোত্তম ব্যবহার: পুকুরের সমস্ত জল ব্যবহার করা হয়, যার ফলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
  • খাদ্যের সর্বোত্তম ব্যবহার: উভয় প্রজাতির মাছই বিভিন্ন ধরণের খাদ্য গ্রহণ করে, যার ফলে খাদ্যের অপচয় কম হয়।
  • অক্সিজেনের সর্বোত্তম ব্যবহার: উভয় প্রজাতির মাছই বিভিন্ন স্তরের জল ব্যবহার করে, যার ফলে পুকুরে অক্সিজেনের ঘনত্ব ভারসাম্যপূর্ণ থাকে।

তেলাপিয়া এবং কার্পের মিশ্র চাষের জন্য কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হবে:

  • পুকুরের আকার: পুকুরটি কমপক্ষে 1000 বর্গমিটার আয়তনের হওয়া উচিত।
  • পুকুরের গভীরতা: পুকুরের গভীরতা কমপক্ষে 1.5 মিটার হওয়া উচিত।
  • পুকুরের জলের গুণমান: পুকুরের জলের গুণমান ভালো হতে হবে।
  • মাছের পোনা: মাছের পোনা সুস্থ এবং ভালো মানের হওয়া উচিত।
  • খাদ্য: মাছের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।
  • পানি ব্যবস্থাপনা: পুকুরের পানি পরিষ্কার এবং অক্সিজেন সমৃদ্ধ রাখতে হবে।

তেলাপিয়া এবং কার্পের মিশ্র চাষ একটি লাভজনক ব্যবসা হতে পারে। এই চাষে উভয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং খাদ্যের অপচয় কম হয়।

শিং, পাবদা এবং গুলসার সাথে কার্পের মিশ্র চাষ

শিং, পাবদা এবং গুলসা বাংলাদেশের জনপ্রিয় মাছ। এই তিনটি মাছই মিঠাপানির মাছ। শিং মাছ একটি মাঝারি আকারের মাছ যা পুকুরের তলদেশে বাস করে। পাবদা মাছ একটি ছোট আকারের মাছ যা পুকুরের মাঝারি স্তরে বাস করে। গুলসা মাছ একটি ছোট আকারের মাছ যা পুকুরের উপরের স্তরে বাস করে।

এই তিনটি মাছ একই পুকুরে একসাথে চাষ করা যেতে পারে। এই মিশ্র চাষে উভয় প্রজাতির মাছই উপকৃত হয়। শিং মাছ পুকুরের তলদেশ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে। পাবদা মাছ পুকুরের মাঝারি স্তর থেকে খাদ্য গ্রহণ করে। গুলসা মাছ পুকুরের উপরের স্তর থেকে খাদ্য গ্রহণ করে। এর ফলে, পুকুরের সমস্ত জল ব্যবহার করা হয় এবং উভয় প্রজাতির মাছের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য এবং অক্সিজেন পাওয়া যায়।

শিং, পাবদা এবং গুলসার সাথে কার্পের মিশ্র চাষের কিছু সুবিধা হল:

  • উচ্চ উৎপাদন: এই মিশ্র চাষে উভয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
  • পুকুরের সর্বোত্তম ব্যবহার: পুকুরের সমস্ত জল ব্যবহার করা হয়, যার ফলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
  • খাদ্যের সর্বোত্তম ব্যবহার: উভয় প্রজাতির মাছই বিভিন্ন ধরণের খাদ্য গ্রহণ করে, যার ফলে খাদ্যের অপচয় কম হয়।
  • অক্সিজেনের সর্বোত্তম ব্যবহার: উভয় প্রজাতির মাছই বিভিন্ন স্তরের জল ব্যবহার করে, যার ফলে পুকুরে অক্সিজেনের ঘনত্ব ভারসাম্যপূর্ণ থাকে।

শিং, পাবদা এবং গুলসার সাথে কার্পের মিশ্র চাষের জন্য কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হবে:

  • পুকুরের আকার: পুকুরটি কমপক্ষে 2000 বর্গমিটার আয়তনের হওয়া উচিত।
  • পুকুরের গভীরতা: পুকুরের গভীরতা কমপক্ষে 2 মিটার হওয়া উচিত।
  • পুকুরের জলের গুণমান: পুকুরের জলের গুণমান ভালো হতে হবে।
  • মাছের পোনা: মাছের পোনা সুস্থ এবং ভালো মানের হওয়া উচিত।
  • খাদ্য: মাছের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।
  • পানি ব্যবস্থাপনা: পুকুরের পানি পরিষ্কার এবং অক্সিজেন সমৃদ্ধ রাখতে হবে।

শিং, পাবদা এবং গুলসার সাথে কার্পের মিশ্র চাষ একটি লাভজনক ব্যবসা হতে পারে। এই চাষে উভয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং খাদ্যের অপচয় কম হয়।

এখানে একটি উদাহরণ দেওয়া হল কিভাবে শিং, পাবদা এবং গুলসার সাথে কার্পের মিশ্র চাষ করা যেতে পারে:

  • পুকুরের আকার: 2000 বর্গমিটার
  • পুকুরের গভীরতা: 2 মিটার
  • মাছের পোনা:
    • শিং: 10%
    • পাবদা: 15%
    • গুলসা: 10%
    • কার্প: 65%
  • খাদ্য:
    • শিং: 10%
    • পাবদা: 15%
    • গুলসা: 10%
    • কার্প: 65%

এই মিশ্র চাষে, শিং মাছের জন্য 10% খাদ্য, পাবদা মাছের জন্য 15% খাদ্য, গুলসা মাছের জন্য 10% খাদ্য এবং কার্প মাছের জন্য 65% খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। এই অনুপাতটি মাছের প্রজাতির আকার, বর্ধনশীলতা হার এবং খাদ্যের চাহিদার উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা যেতে পারে।

এই মিশ্র চাষের ক্ষেত্রে, মাছ ছাড়ার পর প্রথম 2 মাস পুকুরের জল পরিষ্কার এবং অক্সিজেন সমৃদ্ধ রাখার জন্য বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন

অন্যান্য প্রজাতির মাছের সাথে পাঙ্গাস মাছের মিশ্র চাষ

পাঙ্গাস মাছ একটি দ্রুত বর্ধনশীল মাছ যা পুকুরের উপরের স্তরের জল ব্যবহার করে। এই মাছটি এককভাবে চাষ করা যেতে পারে, তবে অন্যান্য প্রজাতির মাছের সাথে মিশ্র চাষ করলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।

পাঙ্গাস মাছের সাথে মিশ্র চাষের জন্য কিছু জনপ্রিয় প্রজাতি হল:

  • তেলাপিয়া: তেলাপিয়া একটি দ্রুত বর্ধনশীল মাছ যা পুকুরের উপরের স্তরের জল ব্যবহার করে। এটি একটি পুষ্টিকর মাছ যা মানুষের চাহিদা পূরণ করে।
  • শিং: শিং একটি মাঝারি আকারের মাছ যা পুকুরের তলদেশে বাস করে। এটি একটি সুস্বাদু মাছ যা বাজারে চাহিদা রয়েছে।
  • পাবদা: পাবদা একটি ছোট আকারের মাছ যা পুকুরের মাঝারি স্তরে বাস করে। এটি একটি সুস্বাদু মাছ যা মানুষের চাহিদা পূরণ করে।
  • গুলসা: গুলসা একটি ছোট আকারের মাছ যা পুকুরের উপরের স্তরে বাস করে। এটি একটি সুস্বাদু মাছ যা মানুষের চাহিদা পূরণ করে।

কার্পের সাথে অন্যান্য মাছের মিশ্র চাষ

কার্প মাছ একটি সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর মাছ যা বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে চাষ করা হয়। কার্প মাছ এককভাবে চাষ করা যেতে পারে, তবে অন্যান্য প্রজাতির মাছের সাথে মিশ্র চাষ করলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।

কার্পের সাথে মিশ্র চাষের জন্য কিছু জনপ্রিয় প্রজাতি হল:

  • তেলাপিয়া: তেলাপিয়া একটি দ্রুত বর্ধনশীল মাছ যা পুকুরের উপরের স্তরের জল ব্যবহার করে। এটি একটি পুষ্টিকর মাছ যা মানুষের চাহিদা পূরণ করে।
  • শিং: শিং একটি মাঝারি আকারের মাছ যা পুকুরের তলদেশে বাস করে। এটি একটি সুস্বাদু মাছ যা বাজারে চাহিদা রয়েছে।
  • পাবদা: পাবদা একটি ছোট আকারের মাছ যা পুকুরের মাঝারি স্তরে বাস করে। এটি একটি সুস্বাদু মাছ যা মানুষের চাহিদা পূরণ করে।
  • গুলসা: গুলসা একটি ছোট আকারের মাছ যা পুকুরের উপরের স্তরে বাস করে। এটি একটি সুস্বাদু মাছ যা মানুষের চাহিদা পূরণ করে।

কার্পের সাথে মিশ্র চাষ একটি লাভজনক ব্যবসা হতে পারে। এই চাষে উভয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং খাদ্যের অপচয় কম হয়।

এই মিশ্র চাষে, কার্প মাছের জন্য 50% খাদ্য এবং তেলাপিয়ার জন্য 50% খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। এই অনুপাতটি মাছের প্রজাতির আকার, বর্ধনশীলতা হার এবং খাদ্যের চাহিদার উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা যেতে পারে।

মাছ চাষ সম্পর্কে সঠিক ধারণা 

মাছ চাষের একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা নিতে হবে। শুরুতে ছোট পরিসরে মাছ চাষ করতে হবে এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পর বড় পরিসরে যেতে হবে।

উপযুক্ত পুকুর নির্বাচন

মাছ চাষের জন্য উপযুক্ত পুকুর নির্বাচন করতে হবে। সব পুকুরে সব ধরনের মাছ চাষ করা যায় না। যেমন মাছ চাষের জন্য পুকুরের পানি নিয়মিত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।পর্যাপ্ত আলো-বাতাস আছে এমন খোলা জায়গায় কার্প মাছের সঙ্গে পাবদা, গুলসা, চিংড়ি চাষ করলে ভালো হবে। এমনকি সামান্য ছায়াযুক্ত জায়গায়ও শিং, তেলাপিয়া বা শোল মাছ চাষ করা যায়। পুকুরে পানির গভীরতা সবসময় ৬-৭ ফুট হতে হবে। অগভীর পুকুরে মাছ চাষ করা হয়, তবে অন্যান্য সমস্যা যেমন রোগ বেশি দেখা যায়। প্যাঙ্গাস মাছ গভীর পুকুরে ভালো করে কিন্তু অন্যান্য মাছ তা করে না।

মাছ ধরার সময় নির্বাচন

বছরের সব সময় বাজারে মাছের দাম এক থাকে না। তাই কবে থেকে মাছ চাষ শুরু করবেন এবং কখন বিক্রি করবেন, মাছ চাষ আগে থেকেই হিসাব করে নিতে হবে। সাধারণত মার্চ মাসের দিকে মাছের দাম বাড়তে থাকে এবং আগস্ট পর্যন্ত দাম ভালো থাকে যখন মাছ বিক্রি করা যায়।

পুকুরে মাছ চাষের ঘনত্ব

মাছ চাষে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিভিন্ন ঘনত্বে মজুদ করতে হয়। যাইহোক, খামারের পুকুরে মাছের ঘনত্ব, মাছের উৎপাদন এবং ফলিত ফিডের ফিড কনভার্সন রেট (রিজ) এর মধ্যে একটি সম্পর্ক রয়েছে। মাছের ঘনত্ব বাড়ানোর মাধ্যমে মাছের মোট উৎপাদন বাড়ানো যায় কিন্তু সেক্ষেত্রে প্রয়োগকৃত ফিডের রূপান্তর হার ভালো হয় না, ফলে মাছ চাষের লাভ কমে যেতে পারে। মাছ চাষে উপযুক্ত ঘনত্বের বেশি মাছ মজুদ করা পুকুরের পরিবেশকে প্রভাবিত করে এবং পরিবেশ বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রয়োগের প্রয়োজন হয়, যার ফলে চাষ ব্যবস্থাপনার ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং মাছের রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে।

মাছের খাদ্য ব্যবস্থাপনা

মাছ চাষে মোট বিনিয়োগের 70% এর বেশি খাদ্য খরচ হয়। সে জন্য মাছের বাজার মূল্য, মাছের প্রজাতি ও চাষ পদ্ধতি বিবেচনা করে মাছ চাষে কী কী খাদ্য ব্যবহার করা যাবে তা নির্ধারণ করতে হবে। মাছের বর্তমান বাজারদর বিষয়টিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। বিরাজমান অবস্থার মধ্যে মাছ চাষীকে খুব বিচক্ষণতার সাথে মাছের খাদ্য নির্বাচন করতে হয়।

মাছ চাষের পুকুরে পানির পরিবর্তন

আধুনিক মাছ চাষ সম্পূর্ণরূপে পুকুরের পানি ব্যবস্থাপনার উপর নির্ভরশীল। মাছ চাষের পুকুরে প্রতিদিন খাবার দিতে হয়। পুকুরের পানিতে মাছ মলত্যাগ করে। উচ্ছিষ্ট খাবার এবং মাছের মলমূত্রের (ফাউলিং) কারণে পুকুরের পানি সহজেই ভারী ও দূষিত হয়ে যেতে পারে। পানি পরিবর্তন করলে এই পুকুর সমস্যাসহ অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। একটি জল পরিবর্তন যে কোন মাছ রোগের জন্য সবচেয়ে ভাল সমাধান. শীতকালে পুকুরে পানি যোগ করলে মাছ আরামদায়ক হয় এবং খাদ্য গ্রহণের হার বৃদ্ধি পায়। পুকুরের জলের অক্সিজেন স্তর বাড়ানোর একটি সহজ উপায় হল পুকুরে জল যোগ করা। কিন্তু সরবরাহকৃত পানি অবশ্যই লোহামুক্ত হতে হবে।

মাছ চাষের পুকুরে এয়ারেটর স্থাপন

মাছ চাষের পুকুরে এয়ারেটর যুক্ত করলে নিরাপদ মাছ চাষে কয়েক ধাপ এগিয়ে যাওয়া যায়। দ্রবীভূত অক্সিজেনের অভাব মাছ চাষের পুকুরে একটি সাধারণ সমস্যা। এই সমস্যা দূর করার পাশাপাশি, যান্ত্রিক বায়ু যন্ত্র পুকুরে সাধারণ অক্সিজেনের মাত্রা (5 পিপিএম) বৃদ্ধি করে, যার ফলে মাছের খাদ্য গ্রহণের হার এবং হজমের হার বৃদ্ধি পায়। মাছের শরীরে খাদ্যের আত্তীকরণ বাড়লে সামগ্রিকভাবে খাবারের মান ভালো হয়। ফলে কম খাদ্যে বেশি মাছ উৎপাদন হয়।

প্রোবায়োটিকের নিয়মিত ব্যবহার

বর্তমান মাছ চাষে প্রোবায়োটিকের ব্যবহার মাছের পুকুরের পরিবেশের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। প্রোবায়োটিক হল এমন পদার্থ যা পুকুরে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বাড়ায়। মাছ চাষের পুকুরের তলদেশে প্রতিনিয়ত জৈব পদার্থ জমে থাকে। এই জৈব পদার্থ পুকুরের তলদেশে পচে গিয়ে ক্ষতিকর গ্যাস তৈরি করে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া পুকুরে জন্মাতে পারে।

প্রোবায়োটিক প্রয়োগ পুকুরে উপকারী ব্যাকটেরিয়া পর্যাপ্ত উৎপাদনের কারণে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া উৎপাদনে বাধা দেয়। পুকুরের পরিবেশ উন্নত করতে এবং মাছ চাষ নিরাপদ রাখতে বাণিজ্যিকভাবে উপলব্ধ যেকোনো প্রোবায়োটিক প্রতি 20-25 দিনে প্রয়োগ করা উচিত। বাজারে দুটি ধরণের প্রোবায়োটিক রয়েছে, কিছু ব্যবহারের আগে চিনির জলে 24 ঘন্টা ইনকিউবেশন প্রয়োজন। আর কিছু সরাসরি পুকুরে লাগাতে হয়। প্রোবায়োটিক প্রয়োগের পরে, পুকুরে কোন ব্যাকটেরিয়াঘটিত এজেন্ট প্রয়োগ করা উচিত নয়।

বর্তমান সময়ে একটু চিন্তা-ভাবনা, বাছাই, বাছাই এবং চাষের প্রযুক্তি নির্ণয় করে নিষ্ঠা ও ধৈর্যের সাথে এগিয়ে গেলে যে কেউ মাছ চাষে সফলতা পাবেন বলে আশা করা যায়।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
3,761FollowersFollow
0SubscribersSubscribe

Latest Articles