Get Ideas and Improving Business

অল্প টাকায় ব্যবসার আইডিয়া জেনে ব্যবসা শুরু করুন

1 39

অল্প টাকায় ব্যবসার আইডিয়া জেনে ব্যবসা শুরু করুন

ব্যবসা করতে গেলে প্রয়োজন টাকা, সাবেক কাল থেকেই এই ধারণা প্রচলিত। তাই আজকে আমরা আলোচনা করবো কীভাবে অল্প টাকায় ব্যবসার আইডিয়া জেনে ব্যবসা শুরু করা যায়।

আমরা সকলেই নানা সময়ে শুনে এসেছি, বড় রকমের মূলধন জোগাড় করতে না পারলে নাকি ব্যবসায় নামাই উচিত্ না। আর্টিকেলটি সম্পূর্ন পড়ুন এবং শেয়ার করে দিন যারা নতুন উদ্যোক্তা হতে চাইছে।

ব্যবসা করতে অনেক টাকা লাগে সত্যিই কী তাই? নাকি উদ্ভাবনী, দক্ষতা, শ্রম আর সৃজনশীলতা দিয়ে নেহাতই অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু করা সম্ভব?

আজ এরকমই ৩৫টি অল্প পুঁজিতে লাভজনক ছোট ব্যবসার আইডিয়া দেব আমরা। এই ছোট ব্যবসাগুলির মধ্যে থেকে নিজের পছন্দ, আগ্রহ ও দক্ষতা অনুযায়ী কোনও একটি বেছে নিয়ে আপনিও কম টাকায় লাভজনক ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

ক্যাটারিং (Catering)সার্ভিস

একটি অন্যতম বেশি লাভের ব্যবসা হল ক্যাটারিংয়ের ব্যবসা। বিয়েবাড়ি থেকে অফিসের বার্ষিক সম্মেলন ক্যাটারিয়ের চাহিদা সর্বত্র। বড় শহর হোক বা মফস্বল, উত্সবে অনুষ্ঠানে যেকোনও জায়গাতেই ডাক পড়ে ক্যাটারারদের।

অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু করতে হলে এই ব্যবসার কথা ভেবে দেখতে পারেন। ব্যবসা শুরু করতে প্রথমেই প্রয়োজন একটা নির্ভরযোগ্য টিম। সন্তোষজনক পরিষেবাই এই ব্যবসার মূল, তাই আপনার টিম হতে হবে পরিশ্রমী, হাসিখুশি ও নির্ভরযোগ্য। এছাড়া কিনতে হবে প্রয়োজনীয় বাসনপত্র, গ্যাস উনুন ইত্যাদি।বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি। তাই এক বা একাধিক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলে বাড়তে পারে ব্যবসা।

ট্রাভেল আর ট্যুরিজম ব্যবসা (Travel & Tourism)

মানুষ ভোজনরসিক হওয়ার পাশাপাশি বাঙালি ভ্রমণপিপাসুও বটে, ফলে মানুষকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া কম খরচে লাভের ব্যবসা।

অল্প টাকায় ব্যবসার কথা ভাবলে এটিই হতে পারে আপনার জন্য সবথেকে সহজ উপায়। এই ব্যবসা শুরু করতে বিনিয়োগ বিশেষ লাগে না, লাগে শ্রম, অধ্যাবসায়, আর বেড়ানোর প্যাশন। টিকিট কাটা, হোটেল বুকিং, বেড়ানোর পরিকল্পনা তৈরি ইত্যাদি ঝক্কি এড়াতে অনেকই ভরসা করেন বিভিন্ন এজেন্সির ওপর। সন্তোষজনক অভিজ্ঞতা হলে তাঁরাই ফিরে ফিরে আসেন প্রতিবছর।

এই ব্যবসা শুরু করতে প্রথমেই ঠিক করে নিতে হবে বেড়ানোর জায়গা। কীধরণের জায়গায় নিয়ে যেতে চান, কোন ধরণের হোটেলে রাখবেন পরিকল্পনা করে নিতে হবে গোটাটা। বিভিন্ন সামাজিক অর্থনৈতিক অবস্থার মানুষের চাহিদা বিভিন্নরকম, আপনি কাদের পরিষেবা দিতে চান ঠিক করে নিতে হবে সেই বিষয়।

এই ব্যবসায় বিনা বিনিয়োগে আয় করা সম্ভব। নতুন নতুন জায়গা খুঁজে বের করলে ব্যবসা বাড়ার সম্ভাবনা বেশি, পাশাপাশিই জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট স্পটগুলোকেও রাখতে পারেন তালিকায়। সেইসব জায়গাগুলোর হোটেলের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করে নিন কত শতাংশ ছাড় বা এজেন্ট কমিশন দিতে প্রস্তুত তারা।

পাশাপাশিই বেড়াতে নিয়ে গিয়ে খাওয়ানোর ব্যবস্থা কী করবেন সেই নিয়েও ভাবনাচিন্তা করুন। হোটেলের খাবার না নিয়ে নিজেরা খাবার ব্যবস্থা করলে লাভ বেশি হবে। সেইমতো জোগাড়যন্ত্র করে এগোন।

ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবসা (Event Management)

ছোট বড় বিভিন্ন সংস্থা তাদের নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব দেয় ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলিকে। অত্যন্ত অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু করা সম্ভব।

এই ব্যবসার জন্য প্রয়োজন দক্ষতা, পরিশ্রম, প্রত্যুত্পন্নমতিত্ব আর যোগাযোগ তৈরির ক্ষমতা। কাজের মাধ্যমেই নিজের কোম্পানিকে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ করতে হবে, তাহলেই মিলবে নতুন কাজ।

শুরু করুন ছোট ইভেন্ট দিয়ে পরে ধীরে ধীরে নতুন নতুন যোগাযোগ তৈরি করে ব্যবসা বাড়ান। কোন ধরণের ইভেন্ট আয়োজন করতে আপনি সবথেকে বেশি সাচ্ছন্দবোধ করেন তা চিহ্নিত করুন এবং সেই অনুযায়ী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগ বাড়ার সাথে সাথে নতুন ধরণের ইভেন্টে হাত দিন।

ক্যাফে/কফিশপ এর ব্যবসা (Cafe or Coffee Shop)

ক্যাফে বা কফিশপের চাহিদা ক্রমশই বাড়ছে ঢাকায়, শহরে আর মফস্বলে। সঠিক কৌশল আর পরিকল্পনা নিয়ে চলতে পারলে এটি বর্তমানে সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসার একটি।

অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু সম্ভব এর জন্য প্রয়োজন একটি ঘর, তা হতে পারে আপনার বাড়ির গ্যারাজও অথবা ঘর ভাড়া করতে পারেন একটি জমজমাট এলাকায়। ঠিক মতো প্রচার করতে পারলে সব সময়ে বড় রাস্তার ওপর হওয়ারও প্রয়োজন নেই।

ক্যাফের ইন্টিরিয়রের দিকে নজর দিন, ক্রেতাকে আকর্ষণ করার অন্যতম মূল চাবিকাঠি নজরকাড়া ইন্টিরিয়র আর আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা। দরকার নেই দামি চেয়ার টেবিল, কিছু বেতের মোড়া বা বড় জলচৌকি দিয়েও কাজ চলে যাবে যদি তা ঠিকভাবে সাজাতে পারেন।

পাশাপাশিই চমক রাখুন খাবারের মেনুতে, দাম রাখুন মধ্যবিত্তের আয়ত্ত্বের মধ্যে। এক্ষেত্রেও খাবারের মেনুর জন্য দেখতে পারেন বিদেশি রেসিপি। প্রচলিত চাইনিজ্, থাই খাবারের বাইরে রাখুন নতুন ধরণের খাবার।

পাশাপাশিই রাখতে পারেন কফি মগ বা অন্যান্য খুচরো গিফ্ট আইটেম বিক্রির ব্যবস্থা। ক্রেতাদের বসে পড়ার জন্য রাখতে পারেন কিছু বইও। এছাড়াও সপ্তাহান্তে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাও করতে পারেন।
অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু করতে চাইলে ঠিক মতো পরিকল্পনা করে নেমে পড়ুন, সাফল্য আসবে।

ব্লগ লিখে আয় (Blog Writing)

ঘরে বসে ব্যবসা করার অন্যমত সহজ উপায় ব্লগ লেখা। গত এক দশকে পৃথিবীজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে এই ব্যবসা।

এই ব্যবসার জন্য প্রথমেই বেছে নিতে হবে আপনার পছন্দের বিষয়টি। এমন বিষয় বাছুন যা সময়ের সাথে সাথে অচল হয়ে যাবে না। বিষয়টি সম্পর্কে অবশ্যই আপনার জ্ঞান ও আগ্রহ থাকা প্রয়োজন, না হলে বেশিদিন চালিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবেনা।

পাশাপাশি দরকার ভাষার ওপর দখল ও লিখতে পারার ক্ষমতা। ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই সবথেকে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছনো সম্ভব, কিন্তু বর্তমানে আঞ্চলিক ভাষার ব্লগের চাহিদাও বাড়ছে। অনেকেই অনলাইনে মাতৃভাষায় পড়তে পছন্দ করেন।

ব্লগটির মাধ্যমে আপনি কোন পাঠকের কাছে পৌঁছতে চাইছেন সে বিষয় পরিষ্কার ধারণা থাকা আবশ্যিক। ব্লগের ভাষার ধরণ ও রচনা শৈলী নির্ভর করবে তার ওপর। অনলাইনে বিনামূল্যে ব্লগ তৈরির বিভিন্ন গাইড সহজেই পাওয়া যায়।


ব্লগ তৈরির পর সেটা থেকে কীভাবে টাকা রোজগার করবেন সে বিষয় সিদ্ধান্ত নিন ও সেই মতো বিজ্ঞাপন প্রোগ্রামে সাইন আপ করুন। অর্থাত্ আপনা ব্লগে বিজ্ঞাপনদাতারা বিজ্ঞাপন দেবেন, বিনিময় আপনি টাকা পাবেন। আয় নির্ভর করে আপনার ব্লগের ট্রাফিকের ওপর।

নিয়মিত লিখতে থাকুন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিন আপনার লেখা, ধীরে ধীরে পাঠক বাড়বে। আর পাঠক বাড়লেই বিজ্ঞাপন থেকে বেশি আয় হবে।

ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় (YouTube Channel)

অনলাইনে ব্যবসার আরও একটি সহজ উপায় হল ইউটিউব চ্যানেল, বিষয় হতে পারে যা খুশি। রান্না শেখানো থেকে বেড়ানো, গান থেকে দৈনন্দিনের টোটকা আপনার আগ্রহের যে কোনও বিষয় নিয়েই ইউটিউব চ্যানেল খুলতে পারেন আপনি।

যদি যথেষ্ট সংখ্যক দর্শক আপনার চ্যানেল বা আপলোড করা ভিডিওগুলো দেখে তাহলে বিজ্ঞাপন বাবদ টাকা পাবেন আপনি। তবে ভিডিওর ভিয়্যু সংখ্য বাড়াতে আপনাকে হতে হবে নিয়মিত ও অভিনব। যাতে অন্যান্য চ্যানেল বাদ দিয়ে আপনার চ্যানেল দেখে দর্শক। ভিডিওর গুণমানের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

অনলাইনে শাড়ি বিক্রির ব্যবসা (Online Saree Shop)

বাড়ি বাড়ি গিয়ে শাড়ি বিক্রির ব্যবসা দীর্ঘদিনের। মহিলারা অল্প কিছু শাড়ি কিনে পরিচিতদের বাড়ি বা অফিস গিয়ে শাড়ি বিক্রি করেন বহুদিন ধরেই।

সহজ কিস্তিতে টাকা দেওয়া, হাতের নাগালে সহজেই পছন্দ মতো শাড়ি পেয়ে যাওয়া ইত্যাদি কারণে কর্মরতা ব্যস্ত মহিলারা অনেক সময়ই নির্ভর করতেন এই শাড়ি বিক্রেতাদের ওপর। তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে এই ব্যবসারই খানিক আধুনিকীকরণ হয়েছে। শুধুমাত্র ফেসবুক বিজনেস ব্যবহার করেই কম খরচে লাভের ব্যবসা করছেন অনেকে।

বাংলাদেশের ঢাকাই থেকে লক্ষ্ণৌয়ের চিকন, বিভিন্ন জায়গা থেকে শাড়ি আনিয়ে অনলাইনে বিক্রি করে রমরম করে চলছে ব্যবসা। সঠিক পছন্দ আর ঠিক মতো ক্রেতার কাছে পৌঁছতে পারলে আপনিও খুব সহজেই অল্প টাকায় ব্যবসা করতে পারবেন।

বুটিক ও অনলাইনে পোশাক বিক্রির ব্যবসা (Boutique)

অন্য সকলে যে ডিজাইনের পোশাক পরছে তার বাইরে গিয়ে নতুন ডিজাইনের পোশাক কিনতে পছন্দ করেন অনেক ক্রেতা।

তার জন্য খানিক বেশি দাম দিতেও রাজি থাকেন এই সমস্ত ক্রেতা। এই ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করতেই তৈরি হচ্ছে একাধিক বুটিক। ক্রেতার পছন্দ বুঝে মনমতো পোশাক তৈরিই চ্যালেঞ্জ এই ব্যবসার। দোকানঘর ভাড়া করা সম্ভব নাহলে অনলাইনেও বিক্রি করতে পারেন এই পোশাক।

1 Comment
  1. film says

    PlayStation 4 has been enough free PSN card to giveaway. Gertrud Bald Angelita

Leave A Reply

Your email address will not be published.