Get Ideas and Improving Business

নতুন টিমে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার ৫টি টিপস

0 26

নতুন টিমে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার ৫টি টিপস

আমরা অনেকেই নতুন টিমে কাজ করি কিন্তু জানি না কীভাবে টিমে নিজেকে খাপ খাওয়াবো তাই আজকে আপনাদের জানাবো নতুন টিমে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার ৫টি টিপস

বেশিরভাগ সময়েই নতুন কোনও টিমে জয়েন করার পর প্রথম প্রথম একটু অসুবিধা হয়। বিশেষ করে যারা এর আগে টিমে কাজ করেননি, অথবা মানুষের সাথে চলাফেরা কম – তাদের ক্ষেত্রে এই ঝামেলাটা বেশি হয়। অনেকের আবার কর্মজীবনের শুরুতেই কোনও টিমের অংশ হয়ে গেলে মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগে। – এগুলো খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।

কোনও টিমের নতুন সদস্য হিসেবে যোগ দেয়ার পর দেখবেন যে, সেখানের বর্তমান সদস্যরা ইতোমধ্যেই নিজেদের মধ্যে একটি সম্পর্ক গড়ে নিয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই প্রথম দিনেই আপনার সাথে তাদের তেমন সম্পর্ক হবে না।

কিন্তু এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। নতুন মানুষের সাথে বোঝাপড়া ও ভালো একটি সম্পর্ক গড়তে একটু সময় লাগবেই। আর কাজের ক্ষেত্রে সবাই একটু বেশি সাবধানতা অবলম্বন করে।

কিছু টিম প্রথমেই আপনাকে নিজেদের মত করে স্বাগত জানাবে। কোনও সমস্যাই হবে না। আবার কিছু টিমে নিজের জায়গা করে নিতে একটু বুদ্ধি ও সময়ের প্রয়োজন।

নতুন টিমের মানুষদের কাছে বিশ্বস্ত ও প্রিয় হয়ে ওঠার কিছু পদ্ধতি আছে। যেগুলো অনুসরন করলে আপনি সহজেই তাদের কাছাকাছি যেতে পারবেন। যার ফলে আপনার নিজের কাজ ভালোভাবে হওয়ার পাশাপাশি টিম ওয়ার্ক অনেক ভালো হবে।

আপনি টিমের একজন সদস্য হন, অথবা টিম লিডার – টিমের অংশ হয়ে সঠিক ভাবে কাজ করার জন্য এই পরামর্শগুলো আপনার কাজে লাগবে।

চলুন জেনে নেয়া যাক, নতুন টিমে নিজেকে সুন্দর ভাবে মানিয়ে নেয়ার ৫টি টিপস:

০১. তাড়াহুড়া করবেন না

টিমের ওপর নিজের প্রভাব বিস্তার করার জন্য তাড়াহুড়া করবেন না। বিশেষ করে নতুন কোনও টিমের লিডার হিসেবে যদি নিয়োগ পান – তবে প্রথমেই খুব বেশি প্রভাব খাটানোর চেষ্টা না করাই ভালো। সত্যিকার লিডাররা একটা কথা সব সময়ে মাথায় রাখে: টিমের সদস্যরাই টিম লিডারের মূল শক্তি।

টিমের সদস্যরা যদি টিম লিডারের প্রতি আন্তরিক না হয়, তবে সেই লিডার কখনওই একজন যোগ্য নেতা হয়ে উঠতে পারবে না। টিমে ঢুকে প্রথমেই মনে করবেন না যে, আপনি লিডার অথবা দক্ষ বলে সবাই আপনার মত এক বাক্যে মেনে নেবে। বেশিরভাগ মানুষই যুক্তির চেয়ে আবেগকে বেশি প্রাধান্য দেয়। তাই মানুষ হিসেবে আগে পছন্দনীয় হয়ে উঠতে পারলে এমনিতেই আপনার কথা ও কাজকে সবাই মূল্য দেবে। জোর করে কথা মানানোর চেয়ে, তারাই যেন মন থেকে আপনাকে মানতে চায় – এমন পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা করুন। সদস্যরা যেন বাধ্য হয়ে বা ভয় পেয়ে আপনাকে ফলো করার বদলে, আন্তরিকতার সাথে আপনাকে ফলো করে। সবার প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠার জন্য একটু সময় দিন।

তবে তার মানে এই নয় যে, আপনি টিমের সদস্যদের সাথে সখ্যতা গড়ার জন্য কোনও অনৈতিক বা অন্যায় বিষয় মেনে নেবেন। দৃঢ়তার সাথে নিজের মতামত প্রকাশ করুন। এটাও মানুষের কাছ থেকে সম্মান পাওয়ার একটি অন্যতম উপায়।

টিমের বর্তমান পরিবেশ কেমন – সেটা প্রথম থেকেই ভালো ভাবে আঁচ করার চেষ্টা করুন। টিমের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে বোঝাপড়া ও কাজের পরিবেশ ভালোভাবে লক্ষ্য করুন। এই ব্যাপারে তাড়াহুড়া করবেন না। এটা বুঝতে ভুল হলে টিমের সাথে মানিয়ে নেয়াটা আপনার জন্য কষ্টকর হয়ে যাবে।

০২. প্রতিটি মেম্বারকে প্রাধান্য দিন

একটি টিমে সুন্দর ভাবে মানিয়ে নেয়ার জন্য এটা খুবই জরুরী একটি ধাপ। টিমে ঢুকেই যেন কোনও বিশেষ সদস্য বা কয়েকজন সদস্যের সাথে আপনার অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা না হয়। এটা টিমের বাকি সদস্যদের থেকে আপনাকে মানসিক ভাবে দূরে সরিয়ে দেবে।

টিমের সব সদস্যের সাথে প্রথম দিকে একটি ভালো সম্পর্ক করাটা টিমে মানিয়ে নেয়ার জন্য তাই খুবই জরুরী। টিমের প্রতিটি মানুষের সাথেই আপনাকে ভালোভাবে পরিচিত হতে হবে এবং তাদের সাথে একটি সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

টিমের লিডার হিসেবে বা সাধারণ সদস্য হিসেবে এটা আপনাকে দারুন সুবিধা দেবে। সবাই যেন মন খুলে আপনার সাথে কথা বলে – এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সবার সাথেই কাজের ব্যাপারে আলাদা আলাদা করে কথা বলুন। সবার মনোভাব ও চিন্তার ধরন বুঝতে চেষ্টা করুন।

সবার সাথে আলাদা আলাদা ভাবে কথা বললে প্রতিটি মানুষকে অনেক ভালো ভাবে জানতে পারবেন। এটা গ্রুপ মিটিঙে সম্ভব নয়। তবে গ্রুপ মিটিঙেরও যথেষ্ঠ গুরুত্ব রয়েছে। কারণ, সব মিলিয়ে টিমের পরিবেশ কেমন, তার ধারণা পেতে এটার কোনও বিকল্প নেই।টিমে কার সাথে কার সম্পর্ক কেমন, টিমের মাঝে একজন সদস্যের সত্যিকার অবস্থান কি – এসব বিষয় আপনি গ্রুপ মিটিং গুলোতেই ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। আর এর জন্য আপনাকে খুব খেয়াল করে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

টিমের প্রতিটি মানুষ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া এবং তাদের সাথে বোঝাপড়া গড়ে তোলার জন্য প্রতিটি সদস্যকে প্রাধান্য দিন। তাহলেই আপনি সহজে টিমের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে পারবেন।

০৩. সত্যিকার আগ্রহ নিয়ে টিমের সবার কথা শুনুন এবং উত্তর দিন

শুধু টিমের ক্ষেত্রেই নয়, যে কোনও ধরনের যোগাযোগের ক্ষেত্রেই অপর পক্ষের কথা আগ্রহ নিয়ে শোনা, এবং প্রাসঙ্গিক ভাবে উত্তর দেয়ার কোনও বিকল্প নেই।

নিজের মতামত দেয়ার পাশাপাশি অন্যের মতামত জিজ্ঞাসা করুন। তারা যেটা বলে তা সত্যিকার আগ্রহ নিয়ে শুনুন, এবং তা নিয়ে চিন্তা করে আপনার বিস্তারিত মতামত দিন। মানুষের একটি সাধারন মানসিকতা হল, তাদের কথা ও ভাবনাকে যে মূল্য দেয় – তারাও তাকে মূল্য দেয়।

যদি টিম লিডার হিসেবে নতুন টিমে যোগ দিয়ে থাকেন, তবে প্রথম টিম মিটিঙেই টিমের প্রতিটি সদস্যের কাছে বিভিন্ন বিষয় জানতে চান। তাদের বক্তব্য মন দিয়ে শুনুন, এবং প্রাসঙ্গিক ভাবে উত্তর দিন। এতে করে আপনার আন্তরিকতা বিষয়ে টিমের অন্য সদস্যদের মাঝে কোনও সন্দেহ থাকবে না। তারাও আপনাকে বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য লিডার ভাবা শুরু করবে।

মনোযোগ দিয়ে অন্যের কথা শোনা, এবং তার আগ্রহের বিষয়ে আগ্রহ দেখানো, মানুষের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরী করা এবং তাকে বন্ধু বানানোর অন্যতম সহজ একটি উপায়। এই উপায়কে যত ভালো ভাবে পারুন, কাজে লাগান।

০৪. আপনি কি চাচ্ছেন, এবং আপনার কাছে কি চাওয়া হচ্ছে – তা ভালোভাবে বুঝুন

যখন টিমের সবার সাথে কথা বলার সুযোগ পাবেন, তখন আপনি টিমের অংশ হিসেবে কি করতে চাচ্ছেন – তা বোঝানোর চেষ্টা করুন। এর পাশাপাশি আপনার কাছ থেকে কি চাওয়া হচ্ছে – সেটাও ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করুন।

যদি টিম লিডার হিসেবে কোনও টিমে ঢোকেন, তবে টিম মিটিঙে আপনার নিজের পরিকল্পনা ও সবার কাছ থেকে কি চান – তা সবাইকে স্পষ্ট ভাবে বুঝিয়ে দিন। আপনার পরিকল্পনা বিষয়ে সবার কাছে তাদের মতামত জানতে চান।

টিমের মূল লক্ষ্য, এবং এতদিন তারা কিভাবে কাজ করেছে – কি ধরনের অসুবিধার মুখে পড়েছে – সবকিছুই জানার চেষ্টা করুন। তাহলে আপনার কি করা প্রয়োজন, এবং অন্যদের কি করা প্রয়োজন – তার একটা ভালো আইডিয়া পাবেন। এতে করে যারা আপনাকে টিমে নিয়োগ দিয়েছেন এবং টিমে যারা বর্তমানে আছেন – তারা আপনার কাছ থেকে কি চাইছে সেটাও বুঝতে পারবেন।

০৫. কথা দিয়ে সব সময়ে কথা রাখুন

টিমে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার জন্য এবং তা ধরে রাখার জন্য কথা ও কাজে মিল রাখার কোনও বিকল্প নেই।

সত্যি কথা বলতে, যে কোনও ক্ষেত্রে সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার জন্য কথার সাথে কাজের মিল রাখতে হয়। তা না হলে মানুষের কাছে বিশ্বস্ত হওয়া এবং তাদের সম্মান আদায় করা অসম্ভব।

যে কোনও টিমই তার সব সদস্যের কাছে এই ব্যাপারটা আশা করে। আপনি যদি কথা দিয়ে কথা রাখতে না পারেন, তবে আপনার কারণে পুরো টিমেরই ভোগান্তি হবে। এই কথাটি মাথায় রেখেই সব সময়ে আপনাকে কাজ করতে হবে।

প্রথম অবস্থায় প্রয়োজনে নিজে কিছু দায়িত্ব চেয়ে নিন, এবং সময়ের আগেই সেই কাজ শেষ করে দেখান। এতেকরে, টিমের অন্যরা খুব দ্রুতই আপনাকে নিজেদের একজন বলে গ্রহণ করবে, এবং আপনার ওপর দায়িত্ব দিতে আরও বেশি ভরসা পাবে।

আর আপনি যদি টিমের নতুন লিডার হন, আর যদি টিমের বাকিদের বোঝাতে পারেন যে, আপনি কাজে আন্তরিক, এবং আপনার মুখের কথার সাথে কাজের মিল আছে – তবে এমনিতেই তারা আপনাকে সম্মানের চোখে দেখবে। সেইসাথে, তারা নিজেরাও নিজেদের কথা রাখার ব্যাপারে বেশি সতর্ক হবে। আপনার এই একটি গুণই আপনাকে খুব তাড়াতাড়ি টিমে একটি শক্ত জায়গা করে দিতে পারে।

পরিশেষে বলতে চাইঃ

একটি টিমের অংশ হিসেবে সুন্দর ভাবে কাজ করা আপনার সাফল্যকে অন্যরকম উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। একজন মানুষ একা নিজের বা অন্যের যা করতে পারে, দলগত ভাবে তারচেয়ে অনেক বেশিকিছু করতে পারে। ভালো টিম মেম্বার হওয়া আসলে শিল্পের পর্যায়ে পড়ে। যে যত দ্রুত একটি নতুন টিমে মানিয়ে নিতে পারে – সেই টিমের অংশ হিসেবে তার সাফল্যের যাত্রাও ততই দ্রুত শুরু হয়। আর দ্রুত যাত্রা শুরু করা মানে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো।

আর সেই যাত্রায় এই লেখাটির পরামর্শগুলো যদি আপনার একটুও কাজে আসে, তাহলেই আমাদের উদ্দেশ্য সফল।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার যে কোনও মতামত আমাদের কমেন্ট করে জানান। আপনার প্রতিটি মতামতই আমাদের কাছে মহামূল্যবান।

আর যদি মনে হয় লেখাটি অন্যদেরও উপকার করবে – তবে বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.